সীরাহ মুহাম্মাদ (সাঃ) ২য় খণ্ড

সীরাহ মুহাম্মাদ (সাঃ) ২য় খণ্ড's Category :

সীরাহ মুহাম্মাদ (সাঃ) ২য় খণ্ড's Publication :

সীরাহ মুহাম্মাদ (সাঃ) ২য় খণ্ড's Writer :

সীরাহ মুহাম্মাদ (সাঃ) ২য় খণ্ড


"সীরাহ মুহাম্মাদ (সাঃ) ২য় খণ্ড" বইটির মূল্য

নতুন বইঃ 350 Taka


"সীরাহ মুহাম্মাদ (সাঃ) ২য় খণ্ড" বইটির বিস্তারিত

সম্পাদকঃ জিম তানভীর
শারঈ সম্পাদনাঃ শাইখ মুনীরুল ইসলাম ইবন জাকির

বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহীম

স্কুলজীবনে যে বিষয়গুলো একেবারেই উপভোগ করিনি, সেগুলোর মধ্যে আছে বাংলা এবং ইসলাম শিক্ষা। কখনই এই সাবজেক্টগুলোতে আগ্রহ পাইনি। পড়তে হবে, তাই পড়তাম। না তেমন কিছু শিখেছি, না উপভোগ করেছি। গল্পের বই পড়তে অবশ্য ভালোই লাগতো। আর ইসলাম শিক্ষা বই পড়ে যতো না ইসলাম শিখেছি, তার থেকে বেশি শিখেছি পরিবার আর চারপাশের কালচার থেকে। অবশ্য শিখেছি না বলে ‘জেনেছি’ বলাই ভালো, কারণ সিরিয়াসলি ইসলাম পালন করা শুরু করেছি অনেক পরে।

ইসলাম মানুষকে বদলে দেয়। এই পরিবর্তনটা অন্যরকম, বিশ্বাসে-আদর্শে, কাজে-কর্মে, আচার-আচরণে, অনুভূতি আর মানসিকতায়। পুরো পৃথিবীটা অন্যরকম লাগে। যে ছেলেটা হুমায়ুন আহমেদের সাহিত্য পড়তো, ইসলাম গ্রহণের পর সে দেখবে অর্থহীনতাকে হেয়াঁলিপনার আবরণ দিয়ে প্রকাশ করা ছাড়া এই লোকটা আসলে কিছুই করেনি। যে মেয়েটা জাফর ইকবালের ফ্যান ছিল, সে আবিষ্কার করবে লোকটা কতো সূক্ষ্মভাবে ইসলাম আর মুসলিমদের ব্যাপারে অন্তরে বিদ্বেষ আর বিরক্তির আবরণ তৈরি করে যত্নের সাথে। কিংবা কেউ যদি পশ্চিমবঙ্গের লেখকদের লেখাগুলো পড়ে, তার কাছে মনে হবে কথাগুলো সুন্দর, কিন্তু মিথ্যা।

আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছিলেন, কিছু কথা হচ্ছে জাদুর মতো। কথাটার মানে কী? কথাটার একটা মানে হল, কিছু মানুষ খুব সুন্দর করে, গুছিয়ে, মন্ত্রমুগ্ধ করার মতো মিথ্যে বলে। এতোটাই সুন্দর, গোছানো আর মায়াকাড়া -- যে মিথ্যাকে আর মিথ্যা মনে হয় না, সত্য বলে পাঠক বা শ্রোতা বিশ্বাস করতে থাকে।

বাংলা সাহিত্য বলে সেকুলাররা যে ধারার প্রচলন করেছে, সেই ধারাটাকে আমার একটা জাদুর মতো মনে হয়। সুন্দর, কিন্তু মিথ্যা। আকর্ষণীয়, কিন্তু ফাঁপা। চকচকে, কিন্তু অন্তঃসারশূণ্য। পড়ে একটা ‘ফিল গুড’ হয়, কিছু শব্দ আর লেখার ধরণও শেখা যায় বটে, কিন্তু এই সাহিত্য আমাদের কোথায় নিয়ে যাচ্ছে?

অন্ধকারে, অর্থহীনতা, পথভ্রষ্টতায়।

বাংলাদেশ কোথায় যাচ্ছে? সবাই সমস্বরে একটাই উত্তর দেয়, রসাতলে! জাতি হিসেবে আমরা এ বিষয়ে একমত। ক্ষমতার আসনে বসে থাকা লোকটি এ কথা স্বীকার না করলেও, সে আরো বেশি করে জানে। স্বাধীনতা-উত্তর বাংলাদেশে এই অবনমন চলছে তো চলছেই। বাংলাদেশ ঠিক কবে ভালো ছিল -- এ কথা কেউ মনে করতে পারে না। কেন এমন হল? অনেক কারণ আছে, সেসব নিয়ে বিশ্লেষণ করতে বসি নি। তবে এর পেছনে একটা কারণ আছে, সেটা হলো প্রচলিত সাহিত্যের ধারা আমাদের কিছুই দিতে পারে নি। যা কিছু দিয়েছে তার পুরোটাই গারবেজ -- দেশপ্রেমের নামে উন্মাদনা, ভালোবাসার নামে নোংরামি আর মানবতার নামে ফাঁকাবুলি।

বই একটা জাতিকে বদলে দিতে না পারলেও বদলে দেবার একটা হাতিয়ার বটে। সেকুলার লাইন থেকে ইসলাম গ্রহণ করার পর বই পড়ার অভ্যাস থাকা মানুষরা একটা শূণ্যতা অনুভব করে। কারণ সেকুলার সাহিত্য পড়তে ভালো লাগে না, আর ইসলামী বইগুলোর বেশিরভাগের মান ভালো না, নিরস। এই অভিজ্ঞতা অনেকেরই।

আমার নিজেরও। ইসলাম সম্পর্কে যা কিছু জেনেছি তার সিংহভাগ ইংরেজি বই বা লেকচার থেকে। বাংলা ভাষাভাষীদের মেজরিটি মুসলিম হওয়া সত্তেও সেকুলারদের একচ্ছত্র রাজত্ব দুঃখজনক। আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ছিলেন অসাধারণ বক্তা। তাঁর একটি কথায় মানুষ মুসলিম হয়েছে, এক বৈঠকে মানুষ ইসলাম গ্রহণ করেছে। মরুভূমি থেকে উঠে আসা ধুলোমলিন বেদুইন আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কথা মুহূর্তের মাঝে বুঝে ফেলতো বিন্দুমাত্র অসুবিধা ছাড়াই। আর আমরা মানুষকে ইসলামের দিকে ডাকছি দুর্বোধ্য ভাষায়, যেখানে যত্নের ছাপ নেই, সৌন্দর্যের ছটা নেই। এটা কীভাবে মেনে নেওয়া যায়?

এই মেনে-নিতে-না-পারা থেকেই রেইনড্রপসের জন্ম। যে বাংলা আর ইসলামশিক্ষাকে উপভোগ করতাম না, সে দুটোর মাঝে ইসলাম হয়ে গেলো আমাদের সবচেয়ে প্রিয়, আর বাংলা হলো সেই প্রিয়কে ছড়িয়ে দেওয়ার হাতিয়ার! ঠিক করলাম, আলিমরা যে কথাগুলো বলেছেন, সেগুলোই বলবো, কিন্তু, গুছিয়ে বলবো, সুন্দর করে বলবো -- যেন মানুষ বুঝতে পারে, ভালোবাসতে পারে। ইসলামের সাথে সাধারণ মানুষের মাঝে ভাষার কাঠিন্য আর অস্পষ্টতার যে দেওয়াল তৈরি হয়েছে -- সেটাকে পুরোপুরি ভাঙতে না পারি, কয়েকটা ইট হলেও খুলে নেওয়া চাই।

আলহামদুলিল্লাহ, এই লেখাটি যখন লিখছি, তখন আরো অনেকে এগিয়ে এসেছেন। আশা করা যায়, একটা শক্তিশালী সত্য ন্যারেটিভ তৈরি হবে মিথ্যুকদের বিরুদ্ধে। মিথ্যার দেওয়াল টোকা দিলেই ভেঙে যায়। দীর্ঘদিন ধরে ইসলামের আলো থেকে আমাদের বঞ্চিত রাখা হয়েছে শব্দের জারিজুরি দিয়ে। ইনশা আল্লাহ এভাবে আর বেশিদিন নয়।

সীরাতের দ্বিতীয় খণ্ডই শেষ খণ্ড। এই সীরাতের কাজ করতে গিয়ে বারবার মনে হয়েছে -- আরো কতো কথাই তো বলার ছিল! আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের জীবনটাই এমন। যতো জানবো, ততো ভালোবাসবো, আর যতো ভালোবাসবো, ততো বেশি জানতে ইচ্ছা করবে! কিন্তু বিভিন্ন সীমাবদ্ধতা তো আছেই। দ্বিতীয় খণ্ড বের করতে অনেক দেরি হয়েছে কাঙ্ক্ষিত সময় থেকে। এ জন্য আমরা আন্তরিকভাবে দুঃখিত।

সকল প্রশংসা আল্লাহর যিনি তাঁর নগণ্য কিছু বান্দাকে তাঁর সর্বশ্রেষ্ঠ রাসূলের জীবনকথাকে তুলে ধরার তৌফিক্ব দিয়েছেন। যারা যারা এই বইয়ের সাথে জড়িত, আল্লাহ যেন তাদের প্রত্যেককে কবুল করে নেন। এই বইয়ে যা কিছু ভুল তা আমাদের পক্ষ থেকে, আর কিছু সঠিক তা আল্লাহর পক্ষ থেকে।

সালাম বর্ষিত হোক রাসূলুল্লাহ মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ওপর, তাঁর পরিবার এবং সাহাবীদের ওপর।

সম্পাদক
২৯ জুমাদা আল আওয়াল, ১৪৩৯।
0