সিক্রেটস অব জায়োনিজম

সিক্রেটস অব জায়োনিজম's Category :

সিক্রেটস অব জায়োনিজম's Publication :

সিক্রেটস অব জায়োনিজম's Writer :

সিক্রেটস অব জায়োনিজম


"সিক্রেটস অব জায়োনিজম" বইটির মূল্য

নতুন বইঃ 279 Taka


"সিক্রেটস অব জায়োনিজম" বইটির বিস্তারিত

অনুবাদ: ফুয়াদ আল আজাদ
মুদ্রণ মূল্য: ৪০০৳

ইহুদীরা প্রথম জাতি, যারা তথ্য বাণিজ্যকে সাংবাদিকতায় রূপদান করেছে। মধ্যযুগীয় বিভিন্ন দলিল থেকে জানা যায়- খ্রিষ্ট বছর গণনা শুরুর পর থেকে তাদের সংগ্রহে এমন অনেক তথ্য থাকত, যা তৎকালীন রাজা-বাদশাহদের কাছেও থাকত না। দূরদর্শী ক্ষমতার দিক দিয়ে তাদের সমতুল্য পৃথিবীতে আর কোনো জাতি ছিল না। ভবিষ্যৎ দিনগুলোতে পৃথিবীর বিভিন্ন রাজ্যে কী ঘটতে যাচ্ছে, তা তারা পূর্বেই অনুমান করতে পারত। পরবর্তী সময়ে তা নিউজ লেটার আকারে পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে প্রেরণ করত। রাজ্য পরিচালনায় আগাম তথ্য যে কতটা মূল্যবান, তা নতুন করে বলার প্রয়োজন নেই। তাই এই অমূল্য তথ্যের প্রধান জোগানদাতা হিসেবে তারা সব সময়-ই কাজ করত; তা গুপ্তচর বৃত্তি করে হোক বা অন্য যেকোনো উপায়ে-ই হোক । কিন্ত কীভাবে তারা এতো তথ্য সংগ্রহ করতো! ব্যাখ্যা পেতে খানিকটা পেছনে যেতে হবে।

Jewish Encyclopedia হতে জানা যায়, খ্রিষ্টযুগ শুরুর আগ পর্যন্ত তাদের কোনো রাজা ছিল না। খ্রিষ্টপূর্ব ষষ্ঠ শতাব্দীতে ব্যাবিলন সেনাপতি নেবুচাদনেজার জেরুজালেম আক্রমণ করে সেখানকার অসংখ্য অধিবাসীকে হত্যা করে এবং ৬০-৭০ হাজার ইজরাইলিকে বন্দি করে নিয়ে যায়; অবশ্য পরে তাদের অনেককে ছেড়ে দেওয়া হয়। ৭০ খ্রিষ্টাব্দে সেনাপতি টাইটাসের নেতৃত্বে রোমানরা আবারও এই পবিত্র ভূমি আক্রমণ করে এবং সবাইকে নির্বাসিত করে। ঠিক তখন থেকে বেলফোর ঘোষণার আগ পর্যন্ত তারা আর কখনো সামষ্টিকভাবে জেরুজালেমে ফিরে যেতে পারেনি।

ব্যাবিলনদের আক্রমণে প্রথমবারের মতো নির্বাসিত হওয়ার পর তারা এক অদৃশ্য শাসনব্যবস্থার জন্ম দেয়, যাতে নির্বাসিত অবস্থাতেও একতাবদ্ধ থাকা যায়। কিন্তু দ্বিতীয়বার যখন রোমানদের দ্বারা নির্বাসিত হয়, তখন ইহুদিরা শাসনব্যবস্থায় রাজার সংযোজন করে। ইহুদিরা পৃথিবীর যতদূর পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়ুক না কেন, রাজার নির্দেশ মেনে চলা তাদের জন্য বাধ্যতামূলক ছিল। তিনি ছিলেন তাদের অভিভাবক। এ পর্যন্ত তারা যতজন রাজা নির্বাচিত করেছে, তাদের সবাইকে বলা হয় ‘Exilarch’। এই অদৃশ্য রাষ্ট্রের নামও ছিল ইজরাইল।

প্রাচীন সেই রাষ্ট্রটির একটি পার্লামেন্টও ছিল, যার নাম ‘সেনহাড্রিন’। ৭১ জন সদস্য নিয়ে গঠিত এই পার্লামেন্ট ব্যবস্থার প্রধান হলেন রাষ্ট্রপতি। তবে কোত্থেকে এবং কী উপায়ে এই সদস্যগণ নির্বাচিত হতো, তা কখনো প্রকাশ করা হতো না। তবে তা গণতান্ত্রিক উপায়ে হতো না। একজন রাজা যোগ্যতার ভিত্তিতে সংসদ সদস্যদের নির্বাচন করতেন। এখানে রাজা বলতে তাদের প্রধান ধর্মীয় গুরুকে বোঝানো হয়েছে, যার পরিচয় খুব গোপন রাখা হতো।

বছরের নির্দিষ্ট সময়ে পৃথিবীর বিভিন্ন স্থানে ছড়িয়ে থাকা প্রতিনিধিগণ এই সভায় একত্রিত হতো। মজার বিষয়- তাদের বেশিরভাগ সদস্যই ছিল পৃথিবীর বিভিন্ন দেশের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা। যেমন : সংসদ সদস্য, সামরিক উপদেষ্টা, অর্থ উপদেষ্টা ইত্যাদি। ফলে তাদের নিকট নিজ নিজ রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ অনেক তথ্য মজুদ থাকত। সেনহাড্রিনের অধিবেশন বসলে তারা সবাই নিজ নিজ এলাকার খবরাখবর সেখানে উপস্থাপন করত! যেমন : ফ্রান্সের প্রতিনিধিরা ফ্রান্সের খবর এবং ইংল্যান্ডের প্রতিনিধিরা ইংল্যান্ডের খবর ফাঁস করত। ইউরোপিয়ান রাজারা যত নতুন পরিকল্পনাই গ্রহণ করুক না কেন, সেনহাড্রিনের মাধ্যমে সেই সংবাদ অন্য সদস্যদের কানে চলে যেত। এবার তাদের রাজা উত্থাপিত তথ্যের ভিত্তিতে নতুন সব পরিকল্পনা তৈরি করতেন। ইউরোপিয়ান রাজারা হয়তো সেনহাড্রিনের বিষয়টি জানতেন না, তবে তথ্য পাচারের বিষয়টি অনুমান করতে পেরেছিলেন। তাই প্রায় সময় ইহুদিদের বিদেশ ভ্রমণের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হতো।

জনসাধারণের জান-মাল ও সম্পদের নিরাপত্তা দেওয়া এই সংসদীয় ব্যবস্থার উদ্দেশ্য ছিল না; বরং সাম্রাজ্যবাদ আরও শক্তিশালী করাই ছিল এর উদ্দেশ্য। Jewish Encyclopedia হতে জানা যায়- এই সদস্যরা নির্বাচিত হতো সম্পদ, প্রতিপত্তি ও ধর্মীয় জ্ঞানের মাপকাঠির ওপর ভিত্তি করে। তাদের সাম্রাজ্যবাদ শুধু প্যালেস্টাইনেই সীমাবদ্ধ থাকেনি; বরং এর বিস্তৃত ঘটেছিল পুরো বিশ্বজুড়ে। কারণ, যদি ইজরাইল প্রতিষ্ঠা করতে হয়, তবে প্রতিটি দেশকে ধ্বংস করেই তা করতে হবে।

ইহুদিরা নিজেদের ভ্রাতৃত্ববোধ বজায় রাখতে সংসদীয় কাঠামোকে আজ অবধি একই রকম রেখেছে। তবে এটা ঠিক, সময়ের সাথে সাথে এই ব্যবস্থায়ও সামান্য পরিবর্তন এসেছে। পূর্বে সেনহাড্রিনের আসন সংখ্যা ছিল মাত্র ১০টি। সময়ের সাথে সাথে তা বৃদ্ধি পেয়েছে। আন্তর্জাতিক অর্থনীতিবিদ, রাজনীতিবীদ, বুদ্ধিজীবী, উৎসাহ প্রদানকারী বক্তা, ধনী ব্যবসায়ী ও ধর্মীয় গুরু সবাই এই সম্মেলনে আমন্ত্রিত হতো। তবে সদস্যদের অধিকাংশই হতো ‘রাবাই’।

তারা যে সুশৃঙ্খল ও সুগঠিত একটি জাতি, এ নিয়ে বিতর্কের কোনো সুযোগ নেই। এমন একটি শৃঙ্খল জাতি কিন্তু এক দিনে প্রতিষ্ঠা পায়নি। তাদের আছে চৌকশ অর্থনীতিবিদ, রাজনীতিবিদ বুদ্ধিমান গুপ্তচর। তারা পৃথিবীর গুরুত্বপূর্ণ শহরগুলোতে গোপন আলোচনা সভার আয়োজন করে এবং কাজ শেষে গোপনেই সরে পড়ে।
0