সায়িদাত (আইবুড়ো নারী সংকট ও ভাবনা)

সায়িদাত (আইবুড়ো নারী সংকট ও ভাবনা)'s Category :

সায়িদাত (আইবুড়ো নারী সংকট ও ভাবনা)'s Publication :

সায়িদাত (আইবুড়ো নারী সংকট ও ভাবনা)'s Writer :

সায়িদাত (আইবুড়ো নারী সংকট ও ভাবনা)


"সায়িদাত (আইবুড়ো নারী সংকট ও ভাবনা)" বইটির মূল্য

নতুন বইঃ 78 Taka


"সায়িদাত (আইবুড়ো নারী সংকট ও ভাবনা)" বইটির বিস্তারিত

ভাষান্তর: ইফতেখার সিফাত
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৯৬
প্রচ্ছদ মূল্য:১২০ টাকা

আত্মহত্যা নিয়ে আমাদের মধ্যে একটি ভুল ধারণা কাজ করে। আমরা অনেকেই মনেকরি আত্মহত্যাকারী চিরস্থায়ী জাহান্নামি। অথচ এরূপ ধারণা সঠিক নয়। ইসলামে শরীয়তে আত্মহত্যা নিঃসন্দেহে মারাত্মক অপরাধ ও হারাম।
আল্লাহ তাআলা কুরআনুল কারিমে সুস্পষ্ট ভাষায় ঘোষণা করেছেন-
وَلَا تَقْتُلُوْۤا اَنْـفُسَكُمْ‌ؕ اِنَّ اللّٰهَ كَانَ بِكُمْ رَحِيْمًا
"(হে মুমিনগণ!) তোমরা নিজেদেরকে হত্যা করো না। নিশ্চয় আল্লাহ তোমাদের প্রতি পরম দয়ালু।"(সুরা নিসা : আয়াত ২৯)
আত্মহত্যার শাস্তি সম্পর্কে হাদিস শরীফে বিভিন্ন ধরণের রেওয়ায়ত বর্ণিত হয়েছে। এক হাদিসে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন-
ﻣَﻦْ ﺗَﺮَﺩَّﻯ ﻣِﻦْ ﺟَﺒَﻞٍ ﻓَﻘَﺘَﻞَﻧَﻔْﺴَﻪُ ﻓَﻬْﻮَ ﻓِﻰ ﻧَﺎﺭِ ﺟَﻬَﻨَّﻢَ ﻳَﺘَﺮَﺩَّﻯ ﻓِﻴﻪِ ﺧَﺎﻟِﺪًﺍ ﻣُﺨَﻠَّﺪًﺍﻓِﻴﻬَﺎ ﺃَﺑَﺪًﺍ، ﻭَﻣَﻦْ ﺗَﺤَﺴَّﻰ ﺳَﻤًّﺎ ﻓَﻘَﺘَﻞَ ﻧَﻔْﺴَﻪُ ﻓَﺴَﻤُّﻪُ ﻓِﻰﻳَﺪِﻩِ ﻳَﺘَﺤَﺴَّﺎﻩُ ﻓِﻰ ﻧَﺎﺭِ ﺟَﻬَﻨَّﻢَ ﺧَﺎﻟِﺪًﺍ ﻣُﺨَﻠَّﺪًﺍ ﻓِﻴﻬَﺎ ﺃَﺑَﺪًﺍ،ﻭَﻣَﻦْ ﻗَﺘَﻞَ ﻧَﻔْﺴَﻪُ ﺑِﺤَﺪِﻳﺪَﺓٍ ﻓَﺤَﺪِﻳﺪَﺗُﻪُ ﻓِﻰ ﻳَﺪِﻩِ ﻳَﺠَﺄُ ﺑِﻬَﺎﻓِﻰ ﺑَﻄْﻨِﻪِ ﻓِﻰ ﻧَﺎﺭِ ﺟَﻬَﻨَّﻢَ ﺧَﺎﻟِﺪًﺍ ﻣُﺨَﻠَّﺪًﺍ ﻓِﻴﻬَﺎ ﺃَﺑَﺪًﺍ
যে ব্যক্তি পাহাড়ের ওপর থেকে লাফিয়ে পড়ে আত্মহত্যা করবে, সে জাহান্নামের আগুনে পুড়বে।
চিরদিন জাহান্নামের মধ্যে (দুনিয়ার মতো) অনুরূপভাবে লাফিয়ে পড়তে থাকবে। আর যে ব্যক্তি বিষপান করে আত্মহত্যা করবে, তার বিষ জাহান্নামের আগুনের মধ্যে তার হাতে থাকবে এবং সে জাহান্নামে চিরকাল বিষ পান করতে থাকবে।অনুরূপভাবে যে ব্যক্তি লোহার আঘাতে আত্মহত্যা করবে, জাহান্নামের মধ্যে সে ব্যক্তির হাতে লোহা থাকবে আর সে চিরকাল সে লোহা দ্বারা নিজেকে আঘাত করতে থাকবে।’ (সহীহ বুখারী, হাদীস নং-৫৪৪২)
উল্লেখিত হাদিসের আলোকে অনেকে বলে থাকেন, যে ব্যক্তি আত্মহত্যা করবে,পরকালে সে চিরস্থায়ী জাহান্নামে থাকবে। অথচ এই হাদিসের ব্যখ্যায় মুহাদ্দিসিনে কেরামের বক্তব্য হল,
১. ইমাম বদরুদ্দিন আইনি রহিঃ বলেন
المُرَاد الْمكْث الطَّوِيل لِأَن الْمُؤمن لَا يبْقى فِي النَّار خَالِدا مُؤَبَّدًا.
অর্থাৎ হাদিসে চিরকাল বলে যে শব্দ (خالدا مخلدا) ব্যবহার করা হয়েছে, তার দ্বারা উদ্দেশ্য হল দীর্ঘকাল বা লম্বা সময়।কেননা কোনো ঈমানদার ব্যক্তি চিরস্থায়ী জাহান্নামে থাকবেনা। (উমদাতুল কারি, ২১/ ২৯২)
২.ইমাম ইবনু খুজাইমা রহি. বলেন, কোরআন-হাদিসে মুমিনদের ব্যাপারে যত প্রকার শাস্তির বিবরণ এসেছে সবগুলো শর্তসাপেক্ষে। আর তা এই যে, বর্ণিত শাস্তি আল্লাহ চাইলে মাফ হয়ে যাবে। যেমন আল্লাহ বলেছেন,
إِنَّ اللّهَ لاَ يَغْفِرُ أَن يُشْرَكَ بِهِ وَيَغْفِرُ مَا دُونَ ذَلِكَ لِمَن يَشَاء
‘নিশ্চয় আল্লাহ ওই ব্যক্তিকে ক্ষমা করেন না, যে তাঁর সঙ্গে কাউকে শরিক বা অংশীদার স্থাপন করেছে। এছাড়া যাকে ইচ্ছা তিনি ক্ষমা করেন।(সুরা নিসা : আয়াত ১১৬)
সুতরাং আলোচ্য হাদিসে বর্ণিত শাস্তিও আল্লাহ চাইলে কমিয়ে দিতে কিংবা মাফ করে দিতে পারেন। অন্যথায় আত্মহত্যাকারীর অপরাধটা এমনই যে, সে চিরকালের জন্য জাহান্নামে যাওয়ার উপযুক্ত। (কিতাবুত তাওহিদ ২/৮৬৯)
৩. হাদীসে যে বলা হয়েছে আত্মহত্যাকারী চিরদিন জাহান্নামে থাকবে, তা ওই ব্যক্তির ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে যে হালাল মনে করে আত্মহত্যা করেছে। কেননা আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামাতের নিকট যে কবিরা গোনাহকে বৈধ মনে করে সে কাফের হয়ে যাবে। আর কাফের তো চিরদিন জাহান্নামে থাকবে এতে কোন সন্দেহ নাই।(আদ্দুররুল মুখতার ২/১২৫)
তাছাড়া হাদিস শরিফে এসেছে, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, যে ব্যক্তি ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ বলবে আর তার অন্তরে একটি যব পরিমাণ ঈমান থাকবে তাকে জাহান্নাম থেকে বের করা হবে। আবার যে ব্যক্তি ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ বলবে আর তার অন্তরে একটি অনু পরিমাণ নেকি থাকবে তাকে জাহান্নাম থেকে বের করা হবে। (সহীহ বুখারী, হাদীস নং ৪৪, সহীহ মুসলিম, হাদীস নং ১২৫)
রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের এ হাদিস থেকেও প্রতিয়মান হয় যে, যদি কোনো ঈমানদার আত্মহত্যা করে তবে তাদের দীর্ঘ সময় জাহান্নামের শাস্তি ভোগের পর আল্লাহর রহমতে জাহান্নাম থেকে বের করে জান্নাত দান করা হবে।আবার হতে পারে মহান আল্লাহ তা'য়ালা তাকে ক্ষমাও করে দিতে পারেন।
ওয়াল্লাহু আ'লাম।
0