সাইমুম সমগ্র সিরিজ (১-১২ খণ্ড)

সাইমুম সমগ্র সিরিজ (১-১২ খণ্ড)'s Category :

সাইমুম সমগ্র সিরিজ (১-১২ খণ্ড)'s Publication :

সাইমুম সমগ্র সিরিজ (১-১২ খণ্ড)'s Writer :

সাইমুম সমগ্র সিরিজ (১-১২ খণ্ড)


"সাইমুম সমগ্র সিরিজ (১-১২ খণ্ড)" বইটির মূল্য

নতুন বইঃ 4890 Taka


"সাইমুম সমগ্র সিরিজ (১-১২ খণ্ড)" বইটির বিস্তারিত

পাঠক রিভিউ
খুব ছোটবেলায়, যখন নিজে নিজে বই ভাড়া করে পড়ার মত বড় হইনি, খুব সম্ভব থ্রি কি ফোরে পড়ি, তখন যে তিনটা সিরিজ বই পড়ে আমার নেশা লেগে গিয়েছিলো তা ছিল- তিন গোয়েন্দা, মাসুদ রানা, আর সাইমুম সিরিজ!
তিন গোয়েন্দা আর মাসুদ রানা সিরিজের বইগুলো পড়তাম বড় ভাইয়া থেকে চুরি করে! – উপায় ছিল না! বড় ভাইয়া নিজেই পড়তো আম্মু থেকে চুরি করে!
আর সাইমুম সিরিজ পড়তাম আব্বু থেকে। সাইমুম সিরিজের নতুন কোন বই আসলেই দেখতাম আব্বু দুপুরে বাসায় যখন এক/দুই ঘণ্টার জন্য ফিরতেন, হাতে করে কয়েকটা পত্রিকার সাথে সেই সাইমুম সিরিজের নতুন বইটা থাকতো। আমার রাডারের মত সজাগ চোখে সাথে সাথে ধরা পড়ে যেতো, নতুন বই এসেছে বাসায়! এরপর শুরু হতো অপেক্ষার পালা!
কখন আব্বু খাবে!
কখন আব্বু খেয়ে এবার রেস্ট নেয়ার জন্য শুয়ে শুয়ে সেই বই পড়বে কিছুক্ষণ!
তারপর কখন আব্বুর চোখ লেগে আসবে একটু!
ব্যাস, সাথে সাথে আমার পা দু’টো বিড়ালের মত নিঃশব্দ আর হাত দু’টো দক্ষ চোরের মত চালু হয়ে যেতো! আব্বুর বালিশের পাশ থেকে মুহূর্তে নাই হয়ে যেতো সাইমুম সিরিজের নতুন বই!
অনেক সময় বড় ভাইয়া কাড়াকাড়ি করতো ও আগে পড়ার জন্য। কিন্তু হুঁ হুঁ বাবা, আমি চুরি করে এনেছি, অতএব আমি আগে পড়বো!
কখনো কখনো পড়তে পড়তে এমন নেশা লেগে যেতো, আব্বুর ঘুম ভাঙ্গার আগেই বালিশের পাশে ফেরত রাখার কথা ভুলে যেতাম! আর তখন আব্বুর ঘুম ভেঙ্গে হাঁক শোনা যেতো, “বুড়িইইইইইইইইইইই!”
আব্বু জানতো আব্বুর বালিশের পাশ থেকে বই চুরি করে পড়তে শুরু করার মত সাহস একমাত্র উনার বড় মেয়েরই আছে!
মুখটা কাঁচুমাচু করে বইটা ফেরত দিতে হতো আব্বুকে, আর মিনমিন করে বলতাম, আব্বু আপনি একটু তাড়াতাড়ি পড়ে শেষ করেন, আমি অলমোস্ট অর্ধেক পড়ে ফেলেছি!
তিন গোয়েন্দা আর মাসুদ রানার ক্ষেত্রেও একইরকম নেশা কাজ করলেও, যখন আস্তে আস্তে বড় হচ্ছিলাম, বিশেষ করে বাংলাদেশী সমাজে নিজের মানুষ আর মেয়ে এই দুই পরিচয়ের মধ্যে কনফ্লিক্ট শুরু হচ্ছিলো, আস্তে আস্তে নিজেকে ‘মেয়ে’ পরিচয়ের আগে মানুষ হিসেবে পরিচয় আদায় করে নেয়ার জন্য একটু একটু করে সজাগ হচ্ছিলাম, তখন থেকে তিনগোয়েন্দা আর মাসুদ রানার প্রতি আগ্রহ কমতে শুরু করেছিলো।
কারণ তিন গোয়েন্দা বইয়ে কিশোর, রবিন আর মুসা তিনজনেই ছেলে। খুব রেয়ারলি ওদের গোয়েন্দা-কর্মে কোন মেয়ে ক্যারেক্টার আসতো। আর আসলেই কখনোই মেয়েরা তেমন কোন একটিভ রোল প্লে করতো না। আমি আর নিজেকে দেখতে পেতাম না তিন গোয়েন্দায়। তাই আগ্রহ কমে যাচ্ছিলো।
মাসুদ রানা তখনো পড়ি, কিন্তু বুঝতে পারছিলাম মাসুদ রানা সিরিজ পুরোটাই অসম্ভব রকম সেক্সিজম-এ ভরা। মাসুদ রানা নামের মেইন ক্যারেক্টারটা পুরোপুরি এক্সট্রিম মাত্রার শোভিনিস্টিক, এমন এক গোয়েন্দা যার সাথে সব মেয়েরাই বিছানায় চলে যাওয়ার জন্য এক পায়ে খাঁড়া! এবং মাসুদ রানাও মোটামুটি যে মেয়েকেই মন লেগে যায় তাকেই বিছানায় নিয়ে যেতে দ্বিধা করে না।
আস্তে আস্তে মাসুদ রানা বইও আর তখন ভাল লাগতোনা।
কিন্তু সাইমুম সিরিজের মোহ আমার কাটেনি কখনোই। যদিও সাইমুম সিরিজের মেইন ক্যারেক্টার আহমদ মুসা একজন ছেলে, কিন্তু পুরো সিরিজ জুড়ে মেয়েদেরকে এক্টিভলি জড়িত দেখা গিয়েছে বিভিন্ন কেইস সমাধানে। মেয়েরাও এমনকি খুন পর্যন্ত হচ্ছে ‘জাস্টিস’ সার্ভ করতে গিয়ে। সাইমুম সিরিজের প্রতি আমার অসম্ভব ভাল লাগার অন্যতম একটা কারণ হতে পারে সাইমুম সিরিজে আহমদ মুসা আর তার ফ্রেন্ডস’দের মধ্যে যে ইসলাম দেখেছি, সে ইসলাম আমি আমার চারপাশে ইসলামিক সার্কেলে যে ইসলাম দেখতাম সে ইসলাম থেকে অনেকটুকুই ডিফারেন্ট।
আমার চারপাশের ইসলামিক সার্কেলে মেয়েরা ছিল ‘মিউট’- ছেলেদের উপস্থিতিতে তাদের কণ্ঠস্বর পর্যন্ত ‘পর্দা’ করার জন্য ব্যস্ত। কোন বড় বড় মিটিং বা ট্রেনিং এ যেখানে ছেলেরা মেয়েরা উভয়ে উপস্থিত ছিল সেখানে কখনো দেখিনি মেয়েরা বক্তব্য দিচ্ছে; এ ধরনের ছেলে মেয়েদের জয়েন্ট মিটিং এ একমাত্র, শুধুমাত্র ছেলেরাই বক্তব্য দিতো। মেয়েরা পর্দার এপাশ থেকে শুনত।
কিন্তু আহমদ মুসাদের দুনিয়ায় এই চিত্র ছিল ভিন্ন!
আহমদ মুসা’র দুনিয়ায় মেয়েরা পাশাপাশি দাঁড়িয়ে গুলি চালাচ্ছে! কঠিন কঠিন আলোচনায় দিব্যি অংশ নিচ্ছে, নিজেদের মতামত দিচ্ছে! স্ট্রাটেজিক্যাল পজিশনে থেকে কাজ করছে!
আমার কাছে আহমদ মুসার দুনিয়া তাই মানুষ হিসেবে অনেক বেশী এট্রাক্টিভ ছিল।
শুধু আমি না, আমার মত হাজার হাজার ছেলেমেয়েদের বাল্যকাল জুড়ে রয়েছে আহমদ মুসা! কখনো আহমদ মুসা’র সাথে সাথে ‘মিন্দানাওয়ে বন্দী’ হয়েছি, তো কখনো তার সাথে সাথে হেঁটেছি ‘সিংকিয়াং থেকে ককেশাস’! কখনো তার সাথে গোয়েন্দাগিরি করেছি ‘দানিয়ুবের দেশে’, তো কখনো বন্দী হয়েছি ‘ব্ল্যাক ক্রসের কবলে’ পড়ে! কখনো হারিয়ে গিয়েছি ‘ক্যারিবিয়ানের দ্বীপদেশে’, তো কখনো নস্যাৎ করেছি ‘আন্দামান ষড়যন্ত্র’!
সাইমুম সিরিজ’র পাতায় পাতায় ঘুরে বেড়িয়েছি দেশ থেকে দেশে, পৃথিবীর এক প্রান্ত থেকে আরেক প্রান্তে, জেনেছি অজানা ইতিহাস, আর স্বপ্ন দেখেছি একদিন বড় হয়ে এই দেশগুলোতে সত্যি সত্যি ঘুরতে যাওয়ার! আমি নিজেকে ‘যাযাবর’ বলি; সাইমুম সিরিজ সেই যাযাবর হওয়ার স্বপ্ন দেখাতো আমাকে।
– ড. ফারজানা মাহবুবা
0