সবর ও শোকর

সবর ও শোকর


"সবর ও শোকর" বইটির মূল্য

নতুন বইঃ 133 Taka


"সবর ও শোকর" বইটির বিস্তারিত

বই : সবর ও শোকর
অনুবাদ: হামিদ সিরাজী
সম্পাদনা : মানযুরুল কারিম
পৃষ্ঠা : ১২৮

এই পার্থিব জীবন সৃষ্টি করা হয়েছে একটি পরীক্ষাকেন্দ্র হিসেবে। এখানে আমাদের জীবনে ভালোমন্দ আসে রাতদিনের অনন্তর পালাবদলের মতো। এখন চোখে পৃথিবীর আলো, তো একটু পরেই রাজ্যের অন্ধকার। কোনো অবস্থাই স্থায়ী নয় এখানে, স্থায়ী নয় এই জীবন, এই ঘর ও সংসার। এখানে নিরবচ্ছিন্ন আনন্দধারা বলে কিছু নেই, তবে ব্যতিক্রম কেবল সেই রহস্যময় ব্যক্তিত্ব, যে নিজেকে ব্যাপৃত রেখেছে তার প্রভুর সন্তুষ্টির আয়োজনে, এবং তার সাথে মিলিত হবার প্রাণান্তকর পথচলায়। সুতরাং তার শাখায় যখন কুঁড়ি গজায়, ফুল ফোটে তখন এই রূপের ডালি কৃতজ্ঞতার উপহারস্বরূপ তার প্রভুর দুয়ারে নিবেদন করে আখেরাতের আশায়। আর যখন দুঃখ-কষ্টের সম্মুখীন হয় তখন সে ধৈর্যকে আখেরাতের কল্যাণ অর্জনের উপকরণ হিসেবে যথাযথভাবে কাজে লাগায়, এ কারণে যা-কিছুই ঘটুক আল্লাহর ফায়সালা হিসেবে গ্রহণ করে সে সন্তুষ্ট থাকে, এবং এসব আল্লাহর পক্ষ থেকে বলে অন্তরে শান্তি অনুভব করে। এটা হচ্ছে একজন প্রকৃত ও সফল মুমিনের জীবনধারা।
.
মুমিনের এই জীবনধারার মূল প্রেরণা হচ্ছে কুরআন থেকে নেওয়া অত্যুজ্জ্বল জীবনদৃষ্টি। আমরা জীবনকে কীভাবে দেখব সে বিষয়ে আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া-তাআলা বলেন :

“আর অবশ্যই আমি তোমাদের পরীক্ষা করব কিছুটা ভয়, ক্ষুধা, মাল ও জানের ক্ষতি ও ফল-ফসল বিনষ্টের মাধ্যমে। তবে সুসংবাদ দাও সবরকারীদের। [সূরা বাকারাহ, ২:১৫৫]

“কষ্টের সাথেই তো স্বস্তি রয়েছে। নিশ্চয়ই কষ্টের সাথে স্বস্তি রয়েছে।" [সূরা আশ-শারহ, ৯৪:৫-৬]

অর্থাৎ, একজন মুমিনের মনে এ কথা বদ্ধমূল যে, এই পৃথিবী একটি পরীক্ষাগার। এখানে ভালোমন্দের পালাবদল একটি নিত্যনৈমিত্তিক ব্যাপার। এখন মন্দ অবস্থায় থাকার মানে এটা তার জন্য একটি পরীক্ষা, তাই সে ধৈর্য-সহকারে সুসময়ের অপেক্ষা করে। আর তাকে শান্তি স্পর্শ করলে সে কৃতজ্ঞ হয়, আল্লাহর শাস্তির ভয় থেকে নিজেকে নিরাপদ ভাবে না এবং দুঃসময় আসার ব্যাপারে ভীত-সন্ত্রস্ত থাকে। এভাবে সে দুনিয়ার জীবনের যে-কোনো ঘটনাকে আখেরাতের আয়নায় মূল্যায়ন করে। আখেরাতের কল্যাণের স্বার্থে সে ইচ্ছের বিরুদ্ধে গিয়েও আল্লাহর আদেশ-নিষেধ মেনে চলার ক্ষেত্রে ধৈর্যের পরাকাষ্ঠা দেখায়।
.
আজ মানবজাতি এক গভীর সংকটের মুখোমুখি। এই সংকট সম্পদের নয়, দৃষ্টিভঙ্গির। স্রষ্টার দেওয়া জীবনকে যদি আমরা স্রষ্টার চোখে না দেখি, তবে এই বস্তুজগতের সমুদয় ঐশ্বর্যও কারও জীবনে শান্তি আনতে পারে না। তাই বস্তুজগতের চোখধাঁধানো উন্নতির পরও মানবজাতি আজ হতাশা, বিষণ্ণতা, মানসিক বিচ্ছিন্নতার ধু-ধু বালুচরে একবুক হাহাকার নিয়ে হন্যে হয়ে ফিরছে একটু ছায়ার সন্ধানে। এই হতাশার জীবন থেকে ফিরে আসতে এবং দুনিয়া ও আখেরাতের চিরস্থায়ী কল্যাণ সুনিশ্চিত করতে আমাদের উচিত আল্লাহর দৃষ্টিভঙ্গির আলোয় নিজেদের জীবনকে নতুন করে দেখা। জীবনকে ভিন্ন আঙ্গিকে দেখার দুটি দৃষ্টি আল্লাহ আমাদের দিয়েছেন : একটি ধৈর্য আরেকটি কৃতজ্ঞতা। আল্লাহ আমাদের ধৈর্য ও কৃতজ্ঞতার গুণ ধারণের নির্দেশ দিয়ে বলেন,

“হে ঈমানদারগণ, ধৈর্যধারণ করো এবং মোকাবিলায় দৃঢ়তা অবলম্বন করো। আর আল্লাহকে ভয় করতে থাকো যাতে তোমরা সফলকাম হতে পারো।" [সূরা আ ল ইমরান, ৩:২০০]

“যখন তোমাদের পালনকর্তা ঘোষণা করলেন, যদি কৃতজ্ঞতা স্বীকার করো, তবে তোমাদের আরও দেব; আর যদি অকৃতজ্ঞ হও তবে নিশ্চয়ই আমার শাস্তি হবে কঠোর। [সূরা ইবরাহীম, ১৪:৭]
.
সবর ও শোকর বইটি তেরো শতকের জগদ্বিখ্যাত আলিম, মুজতাহিদ ইমাম ইবনু কাইয়্যিম আল-জাওযিয়্যাহ রাহ.-এর অমূল্য গ্রন্থ 'উদ্দাতুস সাবিরীন ওয়া-যাখিরাতুশ শাকিরীন'-এর সংক্ষেপিত বাংলা অনুবাদ। আমাদের জীবনের সবকিছুকে ঘিরে সবর ও শোকরের যে অপরিহার্যতা, লেখক এতে কুরআন-সুন্নাহর আলোকে তারই মনোজ্ঞ বিশ্লেষণ করেছেন। আমাদের মনে হয়েছে বইটি বাংলা ভাষাভাষী মানুষের হাতে তুলে দিলে তারা এর থেকে অফুরন্ত কল্যাণ লাভ করতে পারবেন। এ আশা থেকেই বইটির অনুবাদ কাজে হাত দেওয়া। আল্লাহর অশেষ ইচ্ছেয় শেষ পর্যন্ত “সবর ও শোকর” বইটি পাঠকের হাতে তুলে দেওয়ার সুযোগ পেয়েছি বলে আমরা আনন্দিত। আল-হামদুলিল্লাহ।
0