শিকলবন্দী ক্ষমা

শিকলবন্দী ক্ষমা's Category :

শিকলবন্দী ক্ষমা's Publication :

শিকলবন্দী ক্ষমা's Writer :

শিকলবন্দী ক্ষমা


"শিকলবন্দী ক্ষমা" বইটির মূল্য

নতুন বইঃ 132 Taka


"শিকলবন্দী ক্ষমা" বইটির বিস্তারিত

লেখক : আলী আহমদ বা-কাসীর
বিষয় : ইসলামী সাহিত্য, গল্প-উপন্যাস এবং সফরনামা
ভাষান্তর: আব্দুল্লাহ মজুমদার
ডায়ালগ ও সম্পাদনা: রাজিব হাসান
.
এই বইটি যিনি লিখেছেন তাকে যেন আল্লাহ্ সর্বোচ্চ সম্মান দান করেন। আর তার সাথে ভাষান্তর এবং সম্পাদনা যিনি করেছেন তাদেরকেও। আমীন।
.
বইটির মূল দিক হচ্ছে ধারা। গুনাহ এর ধারা। এ যেন এক চলমান ধাঁরা। শেষেই হতে চায় না।যতক্ষন না ক্ষমা প্রার্থনা করা হয়। . বই থেকে যা পেয়েছি তা হলো,
গল্পের মূল চরিত্রে যিনি রয়েছেন তিনি রাজ্যের সম্মানিত মানুষ। তিনি তার পাপ কাজে লিপ্ত হওয়ার পরে অনেক অনুশোচনা করেন। কিন্তু লাভ হয়নি।তার পাপ এর ধাঁরা অনেক জনকে ভোগ করতে হয়েছে, এমনকি তার স্ত্রী কেও। তার স্ত্রী এর পরে তার বন্ধুর বোনকেও।
.
আমরা এখান থেকে আরও শিক্ষা পাই যে, কেউ পাপ করলে তার পাপ যেন গোপন রাখা হয়। কেউ যদি তার গোপন পাপ এর কথা মানুষকে বলে বেড়ায় তাহলে আল্লাহ্ নারাজ হয়ে যান।
আমরা বিভিন্ন কুরআনের আয়াত ও হাদিসের মাধ্যমে জানতে পারি,
“যারা পছন্দ করে যে,ঈমানদারদের মধ্যে অশ্লীলতার প্রসার লাভ করুক, নিঃসন্দেহে ইহাকাল ও পরকালে তাদের জন্যে রয়েছে যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি। আল্লাহ্ জানেন,তোমরা জানো না”। [সূরা আন-নূর; ২৪:১৯]
সূরা আন-নিসা এর মধ্যে আল্লাহ্ বলেনঃ “আল্লাহ্ কোন মন্দ বিষয় প্রকাশ করা পছন্দ করেন না। তবে কারো প্রতি জুলুম হয়ে থাকলে সে কথা আলাদা। আল্লাহ্ শ্রবণকারী,বিজ্ঞ”। [সূরা আন নিসা, ৪:১৪৮]

আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রা:) থেকে বর্ণিত, “একজন লোক রাসূল (সা:) এর নিকট আসেলেন এবং বললেন, “হে আল্লাহ্‌র রাসূল! আমি মদিনার থেকে দূরবর্তী এক স্থানে এক মহিলার সঙ্গে ব্যভিচারে লিপ্ত হয়েছি। সুতরাং, আমাকে আমার প্রাপ্য শাস্তি দেন’। উমর ইবনুল খাত্তাব (রা:) তখন বললেন: ‘আল্লাহ্ তো তোমার পাপ গোপন রেখেছিল, তবে কেন তুমি তা গোপন রাখলেনা?’” [সহীহ্‌ মুসলিম]
একইভাবে, যদি কেউ অন্যের পাপের কথা জেনে থাকে তবে তার উচিৎ তা গোপন রাখা।
রাসূল (সা:) বলেন: “যে ব্যক্তি দুনিয়ায় একজন মুসলমানের একটা কষ্ট দূর করবে, হাশরের দিন আল্লাহ্ও তার একটা কষ্ট দূর করে দিবেন; যে একজন ঋণগ্রস্তকে ঋণমুক্ত করবে, আল্লাহ্ তার দুনিয়া আর আখিরাত দুটোই সহজ করে দিবেন; আর যে ব্যক্তি একজন মুসলিমের দোষ গোপন রাখবে, দুনিয়া আর আখিরাত দুই জায়গাতেই আল্লাহ্ তার দোষ গোপন রাখবেন।” [ সহীহ্‌ মুসলিম]
এজন্য গোপন পাপ গোপন রাখা আমাদের দায়িত্ব এবং এর জন্য অনুশোচনা করে আল্লাহ্ এর কাছে আমাদের ফিরে আশা। আল্লাহ্ তো মহান ক্ষমাশীল ও দয়ালু। অবশ্যই তিনি আমাদের করবেন ইনশাআল্লাহ্। .
এই নাটক এর মূল আকর্ষণ হলো, যখন এই পাপের ধাঁরা বন্ধ হয়ে যায় তখন শিকলবন্দী ক্ষমাগুলো ভেঙ্গে চুরমার হয়ে যায় এবং এই পাপের ধাঁরা-ও বন্ধ হয়ে যায়। শিকলবন্দী ক্ষমা গুলো ভেঙ্গে যাওয়ার পর ক্ষমাগুলো আল্লাহ্ কাছে ফিরে যায় এবং পাপীকে ক্ষমা করে দিয়ে আল্লাহ্ তাকে আপন করে নেন।
.
বইটি আমি একটানা শেষ করি। কেননা এটা একটা নাটক এর মতোই। কিন্তু এই নাটক আমাদের সমাজের অন্যান্য নাটক এর মতো নয়। এটি আমাদের মনকে কুলষিত নয় বরং মনকে পরিস্কার করতে সাহায্য করবে। আমাদের ক্ষমা করতে শেখাবে।
.
আযান প্রকাশনী-র কাছে জোরালো অনুরোধ এমন নাটক আরোও চাই। যেনো নাটক এর সংজ্ঞা বদলে যায় আমাদের সমাজে। ইনশাআল্লাহ্ সেই দিন বেশি দূরে নয়।
.
আমরা বইটি পরে এটাই শিখতে পারবো যে, আমরা যেনো একে অন্যের পাপ কাজগুলো গোপন রাখি এবং কেউ পাপ করলে তাদের ক্ষমা করে দিতে পারি। তা না হলে সমাজে ভালো কাজের অস্তিত্ব খুঁজে পাওয়া বেশ দুষ্কর হয়ে যাবে। সমাজ না হলে এই পাপের কারণেই ধ্বংস হয়ে যাবে। .
এই বইটি সবার পড়া উচিত। ক্ষমা কে শিকল থেকে মুক্ত করার এটাই সুবর্ণ সুযোগ।
_

রিভিউ লিখেছেনঃ ভাই Mohammad Rezaul Hossain Ratul
0