ফেরা

ফেরা


"ফেরা" বইটির মূল্য

নতুন বইঃ 119 Taka


"ফেরা" বইটির বিস্তারিত

লেখক : নাইলাহ আমাতুল্লাহ, সিহিন্তা শরীফা

রিভিউ - প্রিয় আরিফ আজাদ ভাই।

‘ফেরা’ আমার লাইফে পড়া সেরা পাঁচটা বইয়ের মধ্যে একটা। বইয়ের কেন্দ্রীয় বিষয়াদি যদিও দু’জন খ্রিস্টান মেয়ের ইসলামে দীক্ষিত হবার কাহিনী, তথাপি বইটা মুসলিম পরিবারের যুবক-যুবতীদের জন্যও ব্যাপক গুরুত্বপূর্ণ।

আমার দীর্ঘদিন শিক্ষকতা করার অভিজ্ঞতা রয়েছে। সেই অভিজ্ঞতা থেকে বুঝেছি, কাউকে উপদেশের সুরে পরিবর্তনের চাইতে পরামর্শের সুরে পরিবর্তন করাটা সহজ। অর্থাৎ, উদাহরণ সৃষ্টি করা। উদাহরণ সৃষ্টি করে ‘গ্যাপ’ গুলো ধরিয়ে দিলে একজন সহজেই তার ঘাটতিগুলো বুঝতে পারে। পবিত্র কোরআনের দিকে তাকান। দেখবেন, সেখানে মূসা (আঃ) এর সংগ্রামের কাহিনী উল্লেখ করা আছে, ইব্রাহীম (আঃ), নূহ (আঃ), লূত (আঃ), ইউসূফ (আঃ) সহ নবী-রাসূলদের সংগ্রামের কাহিনীগুলো ধাপে ধাপে বর্ণনা করা হয়েছে। কেনো এমনটা করা হয়েছে জানেন? আমাদের শিক্ষা দেওয়ার জন্য। আমাদের ‘গ্যাপ’ গুলো উদাহরণের মাধ্যমে দেখিয়ে দেওয়ার জন্য। সত্যকে কবুল করতে গিয়ে ইব্রাহীম (আঃ) নিজের পিতার চোখে শত্রু হয়ে গিয়েছিলেন। শাসক ইব্রাহীম (আঃ) কে আগুনের কুন্ডলীতে নিক্ষেপ করেছিলো। এতদসত্ত্বেও ইব্রাহীম (আঃ) কি দমে গিয়েছিলেন? পিছপা হয়েছিলেন?

নূহ (আঃ) এর কথাই ধরুন। নিজের স্ত্রী, ছেলেরা উনাকে ‘পাগল’ ডাকতো। কেনো ডাকতো? সত্যের দাওয়াত দিতেন, এজন্যে। সত্য প্রচারে যখন নিজের কাছের মানুষগুলো শত্রু হয়ে উঠেছিলো, নূহ (আঃ) কি হতাশ হয়ে গিয়েছিলেন?
যখন সদলবলে ফেরাঊন আক্রমণ করেছিলো মূসা (আঃ) কে, তখন কি মূসা (আঃ) নিজেকে সত্যের বাণী প্রচার থেকে বিরত রেখেছিলেন?
যখন আমাদের প্রাণপ্রিয় রাসূল (সাঃ) স্বদেশভূমি থেকে বিতাড়িত হলেন, যখন উনাকে পাথর নিক্ষেপে ক্ষত-বিক্ষত করা হচ্ছিলো, যখন তাঁর চোখের সামনেই তাঁর প্রিয় সাথীদের উপর নেমে এসেছিলো অকথ্য নির্যাতন, তিনি কি চুপসে গিয়েছিলেন?

এই ঘটনাগুলো আমাদের জানানোর উদ্দেশ্য হলো, আমরা যেন এখান থেকে শিক্ষা গ্রহণ করি। সত্যটাকে সত্য হিসেবে মানতে গেলে আর পালন করতে গেলে আমাদের নিজের মা-বাবা, ভাই-বোন, নিজের আত্মীয়-স্বজন, নিজের কওম আমাদের বিরুদ্ধে উঠেপড়ে লাগতে পারে। এতে করে কি আমরা থেমে যাবো? নাহ, এই শিক্ষা কোরআন আমাদের দেয় না।

‘ফেরা’ পড়তে গিয়েও এমন একটা উদাহরণ পেয়েছি। খ্রিস্টান পরিবারের দুই মেয়ে কিভাবে কিভাবে ইসলামের দাওয়াত পেলো, কিভাবে কিভাবে লুকিয়ে, গোপনে ইসলাম পালন করলো, তাদের প্রথম রোজা, প্রথম ইফতারের সেই ঘটনাগুলো পড়তে গিয়ে চোখ ভারি হয়ে উঠে। ভাবি, আহা! ভিন্ন ধর্ম থেকে আসা দু’জন মানুষ ইসলামকে যেভাবে বুঝেছে, পালন করেছে, যে প্রতিকূলতার মুখোমুখি হয়েছে, আমি কি আমার ইসলামকে সেভাবে বুঝেছি?
সামান্য দাঁড়ি রাখা আর টাখনুর উপরে কাপড় পরা নিয়ে আমি কতো যুক্তি, কতো হিক্বমার বুলি কপচাই। ভাবি, আহা, আমি যদি তাদের জায়গায় হতাম, আমি কি পারতাম নিজের ধর্ম, নিজের পরিবার-পরিজন সবকিছু ছেড়েছুঁড়ে সত্য ধর্মে আসতে? যে আমি ইসলামটাকে ‘শুক্রবারের’ জুমার দু’রাকাত ফরজ নামাজে বন্দী করে ফেলেছি, সেই আমি কি পারতাম এতোবড় ঝুঁকি নিতে যা দু’জন সাহসী বোন নিয়েছিলো? আমি এর বেশিদূর ভাবতে পারিনা।
- - - - - - -
#সিহিন্তার_শেষ_কথাঃ

মুসলিম হওয়ার সাত বছর পরে এ লেখাটা লেখা। এখন তিনজন সন্তান আমার সংসারে, সুখি, আলহামদুলিল্লাহ। আমার বােন-ও ভালাে আছে। বাবা এখন অনেকটাই বদলে গেছেন, ফিরে এসেছেন ইসলামের পথে। মা-ও যেন ফিরে আসেন সেই দুআ করি আমি আর আমার ছেলেরা।

আমি বহুবার আমার আত্বীয়-স্বজনকে বলতে চেয়েছি আমি কীভাবে ইসলামে এলাম। বলতে চেয়েছি তােমরা জীবনের উদ্দেশ্য নিয়ে চিন্তা করো, আসল প্রভূ কে তা নিয়ে ভাবাে। যখনই চিন্তা করি আমাকে ছােট থেকে বড় করলেন যারা, ছোট থেকে বড় হলাম যে ভাই-বোনগুলাের সাথে; তারা অনন্তকাল আগুনে পুড়বে আল্লাহর স্থানে যিশুকে বসানাের কারণে, তখনই খুব কষ্ট লাগে। অনেক কিছু বলার আছে, কিন্তু বলতে পারিনি।

এই লেখাটা শুধু আমার বদলে যাওয়ার গল্প নয়, যিশুকে যারা ভালোবাসে তাদের সবার কাছে আমার একটা বার্তা: যিশু ক্রুশে মারা যাননি। তিনি আবার পৃথিবীতে ফিরে আসবেন। তিনি পৃথিবীতে যে ধর্মের হয়ে লড়াই করবেন তােমরা সেই ধর্মে ফিরে আসে। যিশু যে ধর্ম প্রচার করেছিলেন তােমরা সে ধর্মে ফিরে আসাে।

মুসলিম নামধারী মানুষদেরও কিছু কথা বলতে ইচ্ছে করে। আল্লাহ মানুষকে যা কিছু দিয়েছেন তা একদিক থেকে দেখলে যেমন আশীর্বাদ অন্যদিক থেকে দেখলে পরীক্ষা। আমি অনেক খুঁজে ফিরে ইসলাম পেয়েছি। যারা মুসলিম ঘরে জন্মগ্রহণ করে সহজেই ইসলাম পেয়েছেন, তারপরেও ইসলাম সম্পর্কে জানেন না, জানার চেষ্টা করেন না, ইসলাম মানেন না—তারা আল্লাহর সামনে দাঁড়িয়ে কী জবাব দেবেন?
0