প্যারাডক্সিক্যাল সাজিদ ২

প্যারাডক্সিক্যাল সাজিদ ২'s Category :

প্যারাডক্সিক্যাল সাজিদ ২'s Publication :

প্যারাডক্সিক্যাল সাজিদ ২'s Writer :

প্যারাডক্সিক্যাল সাজিদ ২


"প্যারাডক্সিক্যাল সাজিদ ২" বইটির মূল্য

মুদ্রিত মুল্যঃ 336 Taka

নতুন বইঃ 229 Taka


"প্যারাডক্সিক্যাল সাজিদ ২" বইটির বিস্তারিত

পৃষ্ঠা: ২৪০

#সাজিদের_জন্য_ভালবাসা

বইমেলায় 'চর্চাগ্রন্থ' প্রকাশনের সামনে ভীড় দেইখা একটু দূরে দাঁড়ায়ে আছি। ভাবছি ভীড় কমলে বইটা একটু নাইড়াচাইড়া দেখব। তখন পিচ্ছি একটা ছেলে আইসা বলল,আমার আপু আপনারে ডাকে। আমি একটু আগায়ে গিয়া দেখলাম চৌদ্দ/পনের বছরের একটি মেয়ে দাঁড়ায়ে আছে। আমি জিগাইলাম;কিছু বলবেন? তখন মেয়েটি আমার দিকে তাকায়ে সসংকোচ ও দ্বিধাভাব নিয়া বলল; আমারে একটা 'প্যারাডক্সিকাল সাজিদ -২' কিনা দিবেন? আমি বললাম; দেন, টাকা দেন। কিনা আইনা দেই। তখন মেয়েটি অনেকগুলা দু'টাকার নোট,কয়েকটা পাঁচ টাকা, দুইটা দশ টাকা এবং একটা বিশ টাকার নোট আমার হাতে দিল। আমি জিগাইলাম; এত্তো ভাঙতি টাকা কেন? মেয়েটি নিচের দিকে তাকায়ে চুপ কইরা আছে। আমি কইলাম;উনারা নিবেন কিনা সন্দেহ আছে। তখন মেয়েটা বিষণ্ন চোখে তাকায়ে প্রশ্ন করল; নিবে না? আমি বললাম; দেখি। পুনরায় জিগাইলাম ; এত্তো ভাঙতি টাকা কেন? মেয়েটি তখনও নির্লিপ্তভাবে নিচের দিকে তাকায়ে চুপ করে আছে। তখন ছোটভাইটি বলল; আপু এই টাকাগুলা অনেকদিন ধইরা জমাইছে। টিফিনের খরচ,স্কুলে যাওয়া আসার খরচ বাঁচায়ে। একটা প্লাস্টিকের ব্যাংকে। শুইনা শীতল একটা অনুভব আমার শিরদাঁড়া দিয়া নাইমা গেল। পরে আলাপে জানলাম মেয়েটি পুরাণ ঢাকার একটি বস্তিতে থাকে। নাইনে পড়ে। বাপ রিক্সা চালায়।
.
আমি টাকাগুলা হাতে নিয়া আমার কলেজ ব্যাগে ঢুকায়ে রাখলাম। আমার মানিব্যাগ থাইকা টাকা বাইর কইরা,অনেক ভীড় ঠেইলা মেয়েটারে একটা 'সাজিদ' আইনা দিলাম। বইটা হাতে দিতে গিয়া মেয়েটির মুখে যেই উচ্ছ্বাস আমি দেখছি সেই উচ্ছ্বাস আমি দেখি আমার মায়ের মুখে, যখন ঢাকা থাইকা বহুদিন পর বাড়ি ফিরি। মেয়েটি আমার কইল;শুকরিয়া ভাইয়া!আমিও ভাবতেছিলাম এতো ভাঙতি টাকা হয়তো ওরা নিবে না। আপনার এই উপকারের কথা কখনো ভুলব না। এরপর মেয়েটা সাজিদরে ব্যাগে ঢুকায়ে মগ্নচিত্তে হাঁইটা চইলা যায়।
.
তারপর আমি মেলায় দীঘিটার কাছে গিয়া ব্যাগ খুইলা টাকাগুলা ছুঁইয়া দেখি। ভাবতে থাকি এই টাকাগুলার সাথে কত ভালবাসা জড়ায়ে আছে! এই ইট দালান কংক্রিটের শহরে ভালবাসার বড় অভাব। দীঘির শান্ত জলের দিকে তাকায়ে ভাবতে থাকি,আমাদের সবার গল্পগুলা এমন কেন? আমিও কতদিন এভাবে না খেয়ে টাকা জমায়ে নীলক্ষেত, পুরানা পল্টন, বাংলাবাজার থাইকা বই কিনতাম। ভাড়ার টাকা বাঁচায়ে বই কিনার লাইগা নীলক্ষেত,বাংলাবাজারে হাঁইটা যাইতাম। দামি বই কিনতে না পারার বেদনা,হাহাকার বুকে চাইপা উদাসচোখে বইগুলার দিকে তাকায়ে থাকতাম😒

- মুহা. হেদায়েত উল্লাহ ভাই
0