দুআ কবুলের গল্পগুলো ২

দুআ কবুলের গল্পগুলো ২'s Category :

দুআ কবুলের গল্পগুলো ২'s Publication :

দুআ কবুলের গল্পগুলো ২'s Writer :

দুআ কবুলের গল্পগুলো ২


"দুআ কবুলের গল্পগুলো ২" বইটির মূল্য

নতুন বইঃ 209 Taka


"দুআ কবুলের গল্পগুলো ২" বইটির বিস্তারিত

সংগ্রহ, ভাষান্তরঃ মুহিব্বুল্লাহ খন্দকার ও রাজিব হাসান
সম্পাদনাঃঃ রাজিব হাসান
প্রচ্ছদ ও পৃষ্ঠাসজ্জাঃ মাহামুদুর রহমান
পৃষ্ঠা সংখ্যাঃ ২০০
প্রচ্ছদের ধরণঃ পেপারব্যাক
মূদ্রিত মূল্যঃ ২৮০ টাকা

।।মাকে ফিরে পাওয়া।।

.
আমি ডাঃ সাফায়েত উল কবীর। ময়মনসিংহ জেলায় বসবাস। এখানেই আল হিদায়াহ শপ নামক একটি ইসলামিক শপ পরিচালনা করছি। আজ আমি আপনাদেরকে আমার জীবনের একটি দুআ কবুলের ঘটনা বলতে যাচ্ছি ইন শা আল্লাহ্!

আমি আর মা অনেক দিন ধরেই চিন্তা করছিলাম উমরাহতে যাব। কিন্তু বিভিন্ন কারণে আমাদের যাত্রা পিছিয়ে যাচ্ছিল। অবশেষে আল্লাহর অশেষ রহমতে ২০১৯ সালের এপ্রিল মাসে আম্মাকে সাথে নিয়ে আল্লাহর ঘরে পৌঁছানোর সৌভাগ্য হয়েছিল আলহামদুলিল্লাহ। আমরা দশদিনের উমরাহ প্যাকেজে গিয়েছিলাম।

বাইতুল্লাহ তাওয়াফ করার পর আম্মাকে দেখলাম কাবা’র সামনে সলাত আদায় করছেন। সলাত শেষ হলে আম্মাকে বললাম, তাওয়াফ করার জন্য। আম্মা আমার কাছে উনার হ্যান্ডব্যাগটি দিয়ে তাওয়াফ করতে চলে যান। আমি এই ফাঁকে মা’তাফে বসে আপন মনে বিভিন্ন যিকর আসকার করতে থাকি। মনে মনে ভাবতে থাকি আম্মা তাওয়াফ শেষ হলে আমাকে ফোন দিলে দুজনে মিলে হোটেলে ফিরে যাব। কিন্তু প্রায় পয়তাল্লিশ মিনিট পার হয়ে গেল, অথচ আম্মার কোন হদিস নেই। কোন ফোনকলও নেই। আমি ভীষণ দুশ্চিন্তায় পড়ে গেলাম। হঠাৎ মনে পড়ে গেল, আম্মার ফোন তো তার হ্যান্ডব্যাগের ভিতরে। আর ওটা তো আমার হাতে। ইন্না লিল্লাহ! আমার মাথায় যেন আকাশ ভেঙে পড়ল।
আমি দেরী না করে এদিক-সেদিক আম্মাকে খুঁজতে লাগলাম। দিকভ্রান্তের মত ছোটাছুটি করলাম। মাথায় নানারকমের চিন্তা এসে ভর করল। অসুস্থ শরীরে আম্মা কিভাবে একা একা মসজিদে মহিলাদের সলাতের জায়গা খুঁজে পাবেন? অথবা আমাকে ছাড়া কিভাবে হোটেলে ফেরত যাবেন?

এসব ভাবতে ভাবতে আমি মহিলাদের সলাতের জায়গায় যাই। সেখানে গিয়ে আম্মাকে খুঁজতে থাকি। কিন্তু না আম্মা সেখানে নেই। নেই তো নেই। আম্মাকে ওখানে না পেয়ে আশেপাশে বিভিন্ন অলিতে গলিতে খুঁজতে থাকি। এভাবে প্রায় আধাঘন্টা পার হয়ে গেল। আমি তখন চোখে সরষে ফুল দেখছি। কা’বা চত্বরে এত মানুষের ভিড়ে আম্মাকে খুঁজে পাওয়া নিতান্তই দুরূহ ব্যাপার। বলতে গেলে অসম্ভব। এই চরম বিপদের মূহুর্তে একজন মানুষের কিইবা করার থাকে? কার কাছে সে সাহায্য ভিক্ষা চাইতে পারে। কে সেই অসম্ভবের পাহাড়কে রহমতের বারিধারায় বিলীন করে দেন।
তখনই মনে পড়ে গেল নবী ইউনুস (আঃ) এর কথা। যিনি চরম বিপদের মূহুর্তে দুআ করে মুক্তি পেয়েছিলেন। দুআ ইউনুস নামে যার পরিচিতি দুনিয়া জুড়ে। কোন মুসলিম বিপদের মূহুর্তে এ দুআ পাঠ করলে আল্লাহ্‌ তায়ালা অবশ্যই তার দুআ কবুল করেন।
আমি এই বিশ্বাসে একান্ত মনে আল্লাহ রব্বুল আলামিনের কাছে সাহায্য চেয়ে দু’আ ইউনুস পড়তে থাকলাম। লা- ইলাহা ইল্লা আনতা সুবহানাকা ইন্নি কুন্তু মিনাজ জ্বোয়ালেমিন।

সুবহানাল্লাহ! এক মিনিটের মধ্যেই আম্মাকে আবিষ্কার করলাম। আমার চোখের সামনে দাঁড়িয়ে আছেন তিনি। অবিশ্বাস্যভাবে আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালা আমার দুআ কবুল করে নিলেন। আল্লাহর এই দয়া দেখে আমার ভীষণ কান্না পাচ্ছিল তখন।

আরো অবাক হই উমরাহ থেকে ফিরে আসার কয়েক মাস পর। কথা প্রসঙ্গে একদিন আম্মার কাছে জানতে পারি, তিনিও ঐ সময়টাতে দুআ ইউনুস পড়ে আল্লাহর কাছে সাহায্য চেয়েছিলেন। আল্লাহু আকবর!
আল্লাহর ঘরের সামনে আমার এই দুআ কবুলের ঘটনা অদ্ভুত এক উপলব্ধি জাগিয়েছে আমার মধ্যে। আল্লাহর সাহায্য যে কত নিকটবর্তী তা আমার চাইতে আর কে ভালো জানে। (১)
মহান আল্লাহ্‌ ইরশাদ করেন,

আর আমার বান্দারা যখন তোমার কাছে জিজ্ঞেস করে আমার ব্যাপারে বস্তুতঃ আমি রয়েছি সন্নিকটে।যারা প্রার্থনা করে, তাদের প্রার্থনা কবুল করে নেই, যখন আমার কাছে প্রার্থনা করে” (২)

দুআ ইউনুসের ফজিলত সম্পর্কে মহান আল্লাহ ইরশাদ করেন,

“তখন আমি তার ডাকে সাড়া দিয়েছিলাম এবং তাকে উদ্ধার করেছিলাম দুশ্চিন্তা হতে এবং এভাবেই আমি মু'মিনদেরকে উদ্ধার করে থাকি।(৩)
0