দা ডিভাইন রিয়ালিটি (পেপার ব্যাক)

দা ডিভাইন রিয়ালিটি (পেপার ব্যাক)'s Category :

দা ডিভাইন রিয়ালিটি (পেপার ব্যাক)'s Publication :

দা ডিভাইন রিয়ালিটি (পেপার ব্যাক)'s Writer :

দা ডিভাইন রিয়ালিটি (পেপার ব্যাক)


"দা ডিভাইন রিয়ালিটি (পেপার ব্যাক)" বইটির মূল্য

নতুন বইঃ 295 Taka


"দা ডিভাইন রিয়ালিটি (পেপার ব্যাক)" বইটির বিস্তারিত

অনুবাদক: মাসুদ শরীফ
সম্পাদনা: আরিফ আজাদ
গায়ের দাম: ৫৫০ টাকা (হার্ডকাভার)
পৃষ্ঠাঃ ৩২৮

মহাজাগতিক শৃঙ্খলা:
মহাজগৎজুড়ে শৃঙ্খলার যে-প্রদর্শনী, জ্যোতির্মণ্ডলীয় সংগতি, তা শুধু সাধারণ মানুষকে নয়, অ্যালবার্ট আইনস্টাইনের মতো প্রতিভাধরকেও অভিভূত করেছে। একবার তিনি বলেছিলেন:
“আমি নাস্তিক নই। নিজেকে আমি সর্বেশ্বরবাদীও মনে করি না। বিশাল-বইঘরে-ঢোকা ছোট্ট এক শিশুর অবস্থানে আছি আমরা। সেখানে বহুভাষার অসংখ্য বইয়ের সংগ্রহ। শিশুটি জানে, কেউ না কেউ অবশ্যই লিখেছে এসব বই। কিন্তু সে জানে না কে সেই লেখক। যেসব ভাষায় লেখা হয়েছে বইগুলো, তা-ও সে বোঝে না। বইগুলো যেভাবে সাজানো, এর মাঝে এক রহস্যময় শৃঙ্খলা আছে বলে ক্ষীণ এক সন্দেহ তার মাঝে। কিন্তু সেটা যে আসলে কী তা সে ধরতে পারছে না। ঈশ্বরের প্রতি সবচে বুদ্ধিমান মানুষের মনোভাবও এমন বলে আমি মনে করি। আমরা দেখি এই মহাজগৎ বিস্ময়করভাবে সাজানো। নির্দিষ্ট কিছু নিয়মের অধীনে চলছে। কিন্তু এসব নিয়মের খুব সামান্যই বুঝতে পারি আমরা। রহস্যে মোড়া যে শক্তি নক্ষত্রপুঞ্জকে চালায়, আমাদের সীমিত বোধশক্তি সেগুলো ধরতে পারে না।”

রিচার্ড ডকিন্সের মতো অকপট নাস্তিকও জগতের শৃঙ্খলা নিয়ে অভিভূত। পরিকল্পনা তত্ত্বকে বাতিল করে দিয়ে নিজের মতো এক প্রকৃতিবাদী ব্যাখ্যা অবশ্য তিনি দাঁড় করিয়েছেন এজন্য। তবে আইনস্টাইনের মতো তিনিও অভিভূত না হয়ে পারেননি:
“আজ যখন এই কথাগুলো লিখছি, আমি মনে করি, বেঁচে থাকতে পেরে আমি ভাগ্যবান; আপনিও। যে গ্রহে আমরা বাস করি, আমাদের ধরনের জীবনের জন্য তা একেবারে নিখুঁত। নাতিশীতোষ্ণ অঞ্চল। উজ্জ্বল আলোয় রোদ পোহাচ্ছে। পরিমিত পরিমাণে পানির ব্যবস্থা আছে। মৃদুছন্দে ঘুরছে। সবুজ আর সোনালি ফসলের উৎসবে রাঙা এক গ্রহ… দৈবচয়নের ভিত্তিতে এমন উপযোগী সব বৈশিষ্ট্যে ভরা একটি গ্রহ হওয়ার সম্ভাবনা কতটুকু?”

এই মহাজগৎ অবশ্যই “বিস্ময়করভাবে সুবিন্যস্ত”। খুঁটিনাটি সব বিষয়ও এখানে সুশৃঙ্খল। এই শৃঙ্খলার ক্ষাণিক উনিশ-বিশ হলেই আর প্রাণের বিকাশ সম্ভব হতো না এখানে। পাঠকের ভাবনার খোরাক দিতে কিছু উদাহরণ তুলে ধরছি:
আমাদের গ্রহের অবস্থান:
আমাদের গ্রহে প্রাণের বিকাশের অন্যতম কারণ সূর্য থেকে এর একেবারে নিখুঁত দূরত্ব। বাসযোগ্য অঞ্চল নামে পরিচিত জায়গায় পৃথিবীর অবস্থান। এই অঞ্চল হচ্ছে “এমন এক জায়গা, যেখানে কেন্দ্রীয় তারা থেকে আসা তাপ গ্রহের উপরিতলে এমন এক তাপমাত্রা দেয়, যাতে সাগরের পানি জমে বরফ হয় না, আবার উত্তপ্ত হয়ে ফোটেও না।” আমাদের গ্রহটি বর্তমান অবস্থা থেকে যদি সূর্যের সামান্য কাছে থাকত, তা হলে অধিক উত্তপ্ত হতো; আবার সামান্য দূরে থাকলে তা হতো খুব ঠান্ডা। ফলে মানব-জীবনের মতো জটিল প্রাণের বিকাশ হতো অসম্ভব।
বৃহস্পতি গ্রহের মধ্যাকর্ষণ বল:
আমাদের সৌরজগতে দানবাকারের গ্যাসীয় গ্রহ বৃহস্পতি না থাকলে জীবন ধারণের ওপর মারাত্মক প্রভাব পড়ত। ভূতাত্ত্বিক বিজ্ঞানী পিটার ওয়ার্ড বলেন, “বৃহস্পতি ছাড়া পৃথিবীতে আজ প্রাণের অস্তিত্ব না থাকার যথেষ্ট শঙ্কা ছিল।” বৃহস্পতি গ্রহ মহাজাগতিক ঢাল হিসেবে কাজ করে। পৃথিবীর দিকে ধেয়ে আসা ধূমকেতু আর গ্রহাণুকে প্রবল মধ্যাকর্ষণ শক্তিবলে সে টেনে নেয় নিজের দিকে। এমন বন্ধুবৎসল দানবকার গ্যাসীয় গ্রহ না থাকলে পৃথিবীতে প্রাণের উন্নত বিকাশ হয়তো সম্ভব হতো না।
নাসা স্যাগান গবেষণাকর্মী রেবেকা মার্টিন বৃহস্পতির প্রভাব নিয়ে গবেষণা করে বলেছেন, “নিকটস্থ পাথুরে গ্রহে প্রাণের সম্ভাবনা জাগাতে সঠিক জায়গায় সঠিক আকারের দানবাকৃতির গ্রহ থাকা জরুরি। এখান থেকে উৎপন্ন হয় গ্রহাণু বেড়ি। আমাদের গবেষণায় দেখেছি, এখন পর্যন্ত পর্যবেক্ষণ করা গ্রহজগৎগুলোর মধ্যে অল্পকিছুতেই এমন গ্রহ আছে... আমাদের গবেষণা বলছে, আমাদের সৌরজগৎ সম্ভবত বিশিষ্ট ধরনের।”
বৃহস্পতি গ্রহ না থাকলে, গ্রহাণু আর ধূমকেতুগুলোর মাঝে লাগাতার সংঘর্ষে পৃথিবীতে জীবন ধারণ প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়ত।
জোয়ারভাটা:
পৃথিবীর উপগ্রহ চাঁদের আকার তুলনামূলক বড়। পৃথিবীতে ঘটা জোয়ারভাটার কারণ চাঁদের মাধ্যাকর্ষণ শক্তি। চাঁদ এখন যেখানে আছে, আদিতে চাঁদের গঠনের পর এটা তারচে কাছে ছিল; তবে বেশিদিনের জন্য নয়। কৌণিক ভরবেগের কারণে চাঁদ যদি না সরত, আমাদের গ্রহে এর পরিণতি হতো মারাত্মক। পৃথিবীর উপরিতল গরম হয়ে যেত। চরমভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হতো প্রাণের বিকাশ। অধ্যাপক ওয়ার্ড বলেছেন, চাঁদ বর্তমান অবস্থার চেয়ে কাছে থাকলে পৃথিবীর ভূত্বক নরম হতো। তখন ঘর্ষণজনিত তাপ উৎপন্ন হতো। আর তাতে সম্ভবত গলে যেত উপরিতল: “নিকটস্থ চাঁদ থেকে মহাসাগরীয় জোয়ারভাটা (এবং ভূত্বকীয় প্রসারণ-সংকোচন) হতো বিশাল। ভূত্বকের নমনীয়তা, সাথে ঘর্ষণজনিত তাপের কারণে পাথুরে উপরিতল সম্ভবত গলে যেত।”
পৃথিবীর ঘূর্ণন অক্ষের ঢলকে স্থিতিশীল করা:
পৃথিবীর অক্ষকে স্থিতিশীল করার পেছনেও আছে চাঁদের অবদান। অধ্যাপক ওয়ার্ড বলছেন, “লাখো-কোটি বছর ধরে গ্রহের নড়াচড়ার ফলে ঢলের দিকের পরিবর্তন হয়। অনেকটা ঘূর্ণনরত বস্তুর ধীর ও ধারাবাহিক ঘূর্ণন-অক্ষ সরে যাওয়ার মতো। তবে কক্ষপথ তলের তুলনায় ঢলের কোণ প্রায় স্থির থাকে।”
লাখো-কোটি বছর ধরে পৃথিবীর এই কোণ একই আছে চাঁদের মাধ্যাকর্ষণ শক্তির ফলে। চাঁদের আকার যদি ছোট হতো, সূর্য ও বৃহস্পতির সাপেক্ষে এর অবস্থান হতো অন্য জায়গায়। তখন “পৃথিবীর তাপমাত্রার দীর্ঘমেয়াদি স্থিতি” সম্ভব হতো না। পৃথিবীর চাঁদ যদি না থাকত, তা হলে এখানকার জলবায়ু হতো পরিবর্তনশীল এবং বৈরী। শুধু ছোট ছোট প্রাণসত্তার আবির্ভাব হতো তা হলে। জটিল জীবনের অস্তিত্ব সম্ভব হতো না।
এসবকিছু বিবেচনা করলে প্রাকৃতিক নিয়ম আর আমাদের সৌরজগতের সুশৃঙ্খল প্রদর্শনের সেরা ব্যাখ্যা কী হতে পারে তা হলে? অল্প কিছু সম্ভাবনাই বাকি থাকে: দৈবঘটনা, প্রাকৃতিক অনিবার্যতা, বহু মহাজগৎ অথবা পরিকল্পনা।
0