দাজ্জাল

দাজ্জাল's Category :

দাজ্জাল's Publication :

দাজ্জাল's Writer :

দাজ্জাল


"দাজ্জাল" বইটির মূল্য

নতুন বইঃ 119 Taka


"দাজ্জাল" বইটির বিস্তারিত

সম্পাদনাঃ রাজিব হাসান
শর'য়ী সম্পাদনাঃ শাইখ মনীরুল ইসলাম ইবনু জাকির
প্রচ্ছদ ও পৃষ্ঠাসজ্জাঃ মাহামুদুর রহমান
প্রচ্ছদঃ পেপারব্যাক
সর্বমোট পৃষ্ঠাঃ ১২৮টি
মুদ্রিত মূল্যঃ ১৬০/-

আদম সন্তানের সাথে "ফিতনা" শব্দটি ওতপ্রোতভাবে জড়িত। পিতা আদম (আঃ) ফিতনার সম্মুখীন হয়েছিলেন। হাবিল-কাবিল ফিতনার সম্মুখীন হয়েছিল। নূহ (আঃ) ও তার প্রতি গুটিকয়েক বিশ্বাসী বান্দা ফিতনার সম্মুখীন হয়েছিল। আইয়ূব (আঃ) ফিতনার সম্মুখীন হয়েছিলেন। মুসলিম মিল্লাতের পিতা ইব্রাহীম (আঃ) ফিতনার সম্মুখীন হয়েছিলেন, লূত্ব (আঃ) ফিতনার সম্মুখীন হয়েছিলেন। নবী ইউসুফ (আঃ) ফিতনার সম্মুখীন হয়েছিলেন। মূসা (আঃ) ও তার অনুসারীরা ফিতনার সম্মুখীন হয়েছিল। ঈসা (আঃ) ফিতনার সম্মুখীন হয়েছিলেন। ফিরাউন, হামান, নমরুদ, আদ, ছামুদ, ক্বওমে লুত্ব, জুলেখা, আজর ছিল তৎকালীন সময়ের উল্লেখযোগ্য ফিতনা। এমনকি প্রিয় নবী মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ (সাঃ) ও তার প্রতি ঈমান আনা ব্যক্তিবর্গ ফিতনার সম্মুখীন হয়েছেন। আবু বকর (রাঃ), উমার (রাঃ), উসমান (রাঃ), আলী (রাঃ) – থেকে শুরু করে সকল সাহাবা (রাঃ) আজমাঈন ফিতনার সম্মুখীন হয়েছেন। গত চৌদ্দশ’ বছর ধরে তাবে-তাবেঈন, ঈমামগণ, মুহাদ্দিসগণ, মুজতাহিদগণ, ফক্বিহগণসহ প্রতিটি মুসলিম প্রজন্ম নানামূখী ফিতনার সম্মুখীন হয়েছে।

মহান আল্লাহ্‌ ইরশাদ করেন,

“মানুষ কি মনে করে যে, ‘আমরা ঈমান এনেছি’ বললেই তাদের ছেড়ে দেয়া হবে, আর তাদের পরীক্ষা করা হবে না?”(সূরা আনকাবুত, আয়াতঃ০২)
.

যুগে যুগে মহান আল্লাহ্‌ মুমিনদেরকে পরীক্ষার নিমিত্তে ফিতনায় ফেলেছেন। ফিতনার মাধ্যমে পরখ করে নিয়েছেন বান্দার ঈমানের দৌড় কতদূর। যে ব্যাক্তিই ঈমানের দাবী করেছে তাকে অবশ্যই পরীক্ষার অগ্নিকুণ্ডে নিক্ষেপ করে দগ্ধ করা হয়েছে। আগুনে পুড়ে মুমিনের ঈমান চাঙা হয়েছে, নাহলে জ্বলেপুড়ে ছারখার হয়েছে। মুমিনকে কখনও শাসকের ফিতনায়, কখনও প্রভাব-প্রতিপত্তির ফিতনায়, কখনও ক্ষুধার ফিতনায়, নারীর ফিতনায়, ধন-সম্পদের ফিতনায়, সন্তান-সন্তুতির ফিতনায়, ফসল বিনষ্টের ফিতনায়, শারীরিক নির্যাতন ও অসুস্থতার ফিতনায় ফেলা হয়েছে। আল্লাহ্‌ রব্বুল আলামিন নানাবিধ ফিতনার মাধ্যমে মুমিনের ঈমানের হালত পরীক্ষা করে নিতে চেয়েছেন ।

সর্বশক্তিমান আল্লাহ্‌ ইরশাদ করেন,
আর আমি অবশ্যই তোমাদেরকে পরীক্ষা করব কিছু ভয়, ক্ষুধা এবং জান-মাল ও ফল-ফলাদির স্বল্পতার মাধ্যমে। আর তুমি ধৈর্যশীলদের সুসংবাদ দাও।(সূরা বাকারাহ, আয়াতঃ ১৫৫)
.

এছাড়াও এই উম্মতের মাঝে ফিতনাসরূপ এসেছে বেশ কিছু প্রভাবশালী মানুষ। তারা মানুষকে প্রতারণার ফাঁদে ফেলত। অনেক সময় শাইত্বন সরাসরি মানুষকে ধোঁকা দিতে আসেনা বরং তার অনুসারীদের মধ্যে থেকে কিছু মানুষকে পাঠায়। তন্মধ্যে মুসাইলামাহ, আল মুখতার, আব্দুল্লাহ ইবনে মায়মূন, জাসমিন, সাজাহ, মীর্যা গোলাম আহমদ, রশিদ খলিফা, ডঃ ইয়োর্ক, নস্ট্রাডমাস, সামার ভিয়েন মার্শাল প্রমূখ ছিল উল্লেখযোগ্য। এদের ফিতনা ছিল ভয়াবহ। এরা সবাই নিজেদেরকে নবী দাবী করত। শেষ নবী মুহম্মদ (সাঃ) – এর উম্মতকে ফিতনায় ফেলার জন্য জনমনে সন্দেহ সৃষ্টি করত। মুমিন বান্দাদের ঈমান হরণ করত। ইতিহাস এদেরকে ঘৃণাভরে স্মরণ রাখবে।

.
এরকম অনেক ফিতনা গত হয়ে গেছে, অনেক ফিতনা অপেক্ষা করছে। ক্বিয়ামতের আগ পর্যন্ত এই উম্মত ফিতনার সম্মুখীন হতে থাকবে। মানবজাতির ইতিহাসে সবচাইতে ভয়াবহ ফিতনা এখনও আসেনি। কেননা, বাকী সবাই নিজেকে নবী দাবী করলেও, এই উম্মতের সামনে এই প্রথম কেউ একজন নিজেকে 'প্রভু' দাবী করবে। সে একজন মিথ্যুক, প্রতারক, ধোঁকাবাজ। যার ব্যাপারে প্রতিটি নবী রাসূল (আঃ) তার উম্মতকে সতর্ক করে গেছেন। তার ফিতনা থেকে বেঁচে থাকার ব্যাপারে তাকিদ দিয়েছেন। সে একজন রক্তে মাংসে গড়া মানুষ। একজন তাগড়া যুবক। তার চোখ দুটি ত্রুটিযুক্ত। তার প্রশস্থ ললাটে আরবীতে “কাফির’ লেখা থাকবে। তার থাকবে পেশিবহুল দানবীয় শরীর। বেঁটে প্রকৃতির। ঘাড়টা খানিক কুঁজো। সামনের দিকে ঝুঁকে হেঁটে চলবে। গায়ের রং লালচে হবে। মাথার চুল কোঁকড়ানো থাকবে, দেখে মনে হবে তা যেন কতগুলো গাছের ডাল। ভয়ংকর এই ফিতনার নাম মাসীহ-আদ-দাজ্জাল।

.
উম্মতের প্রয়োজনে, সময়ের প্রয়োজনে, উম্মতকে সতর্ক করতে, উম্মতের কাছে সত্য ও সঠিক বার্তা পৌঁছে দিতে, এই ভয়াবহ ফিতনা মোকাবেলায় উম্মতের করণীয় কী তা ব্যক্ত করতে - আমাদের এবারের আয়োজন বই, “দাজ্জাল।“ ওয়ামা তৌফিকি ইল্লা বিল্লাহ।

.
এই বইটিতে গতানুগতিক ধারার বাইরে গিয়ে দাজ্জালের বর্ণনা তুলে ধরা হয়েছে। দাজ্জাল সম্পর্কিত হাদীসের বর্ণনাগুলো বর্তমান যুগের সাথে মিলিয়ে উপস্থাপনার চেষ্টা করা হয়েছে। দাজ্জাল সম্পর্কে ভাসা ভাসা বিশ্বাস, ভ্রান্ত বিশ্বাস, রূপক বিশ্বাস এবং দাজ্জাল অস্বীকারকারীদেরকে রদ্দ করা হয়েছে।

আমাদের বিশ্বাস এই বইটি অধ্যয়ন করলে উম্মত দাজ্জাল সম্পর্কে সুস্পষ্ট ধারণা পাবে। যাবতীয় অস্পষ্টতা, ঘোলাটে বিশ্বাস, রূপক বিশ্বাস, না-বিশ্বাস দূরীভূত হয়ে যাবে ইন শা আল্লাহ্‌!

.
কোন সহৃদয় পাঠক, বইটিতে দ্বীন ইসলামের সাথে সাংঘর্ষিক কোন বিষয় খুঁজে পেলে অবশ্যই উম্মাহর স্বার্থে সম্পাদক অথবা প্রকাশনীকে জানিয়ে দিবেন। মহান আল্লাহ্ আমাদের এই খেদমতকে কবুল করুন, অজানা, জানা এবং অনিচ্ছাকৃত ভুলগুলিকে ক্ষমা করুন।

আমিন।
0