জবানের হেফাজত

জবানের হেফাজত's Category :

জবানের হেফাজত's Publication :

জবানের হেফাজত's Writer :

জবানের হেফাজত


"জবানের হেফাজত" বইটির মূল্য

নতুন বইঃ 172 Taka


"জবানের হেফাজত" বইটির বিস্তারিত

অনুবাদ: মাওলানা আহমাদ ইউসুফ শরীফ
পৃষ্ঠা সংখ্যা : ১৬৮ (হার্ড কভার)

আল্লাহ তা’য়ালার নেয়ামত রাজির মধ্যে জবান অন্যতম শ্রেষ্ঠ নেয়ামত। সঠিক কাজে জবান ব্যবহার করা, অন্যায়, অসত্য ও হারাম থেকে জবানকে বিরত রাখা আল্লাহ তা’য়ালার দিদার লাভের সহজ ঊপায়।এক কথায় জবানের হেফাজত করা মুমিন জীবনে অতিব গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।

পবিত্র কুর‘আনে মহান আল্লাহ তা’য়ালা খাটি মুমিনগণের সাতটি গুনের কথা উল্লেখ করেছেন। তন্মধ্যে দ্বিতীয় গুণ হচ্ছে -“যারা অনর্থক কথা বার্তায় নির্লিপ্ত ।” আল্লাহ তা‘য়ালা ইরশাদ করেন-“ হে মূমিনগণ! তোমরা আল্লাহকে ভয় কর এবং সঠিক কথা বল। তাহলে আল্লাহ তোমাদের কার্যক্রম সমূহ সংশোধন করবেন এবং তোমাদের অপরাধ সমূহ ক্ষমা করে দিবেন।

ইসলামের দৃষ্টিতে জবানের হেফাজত:-
________________________________
∆ ১.কথা বলায় সাবধানতা:

হযরত বিলাল বিন হারিস (রা:) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ
(সা:) বলেছেন –-মানুষ আল্লাহর সন্তুষ্টির এমনও কথা বলে যার কল্যাণের কথা সে ধারনাই করতে পারেনা অথচ তার দরুন কিয়ামত অবধি তার সন্তুষ্টি লিপিবদ্ধ করে দেন । আবার মানুষ আল্লাহর অসুন্তুষ্টির এমনও কথা বলে যার অকল্যাণের কথা সে ধারনাই করতে পারেনা অথচ তার দরুন কিয়ামত অবধি তার অসন্তুষ্টি লিপিবদ্ধ করে দেন (তিরমিযি,মুয়াত্তা মালেক)।

রাসূলুল্লাহ(সা:)বলেছেন: যে ব্যক্তি আল্লাহ ও শেষ দিবসের প্রতি ঈমান রাখে, সে যেন ভাল কথা বলে অথবা চুপ থাকে।
রাসূলুল্লাহ (সা:) আরও বলেন:” কোন বান্দা ভাল-মন্দ বিচার না করে এমন কোন কথা বলে ফেলে, যার কারণে সে পদস্খলিত হয়ে জাহান্নামের এতদূর গভীরে চলে যায় , যা পূর্ব ও পশ্চিম প্রান্তের দূরত্বের সমান”

২. মিষ্টভাষী হওয়া।
৩. নাজাতের পথ বাকসংযম
হযরত উকবা ইব্ন আমের (রা:) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসূল! নাজাত পাওয়ার উপায় কি ? তিনি জবাব দিলেন: তোমার কথাবার্তা সংযত রাখ, তোমার ঘরকে প্রশস্ত কর (মেহমানদারী করা) এবং তোমার কৃত অপরাধের জন্য আল্লাহর নিকট কান্নাকাটি কর (তিরমিযী) ।

৪. সর্বোত্তম মুসলিম: রাসূলুল্লাহ (সা:) বলেছেন: প্রকৃত মুসলমান সেই ব্যক্তি,যার হাত ও মুখ থেকে মুসলমানগণ নিরাপদ থাকে (বুখারী) ।

৫. জান্নাতের জিম্মাাদারী: জবানের হেফাজত এত বড় আমল যার বিনিময় স্বরুপ রাসূলুল্লাহ (সা:) জান্নাতের জিম্মাদার হয়ে যান, হযরত সাহল ইবনে সা’দ (রা:) হতে বর্ণিত।,রাসূলুল্লাহ (সা:) বলেছেন, যে ব্যক্তি তার দু‘চোয়ালের মধ্যবর্তী বস্তু , অর্থাৎ যিহবা এবংতার দু‘উরুর মধ্যবর্তী তথা লজ্জাস্থানের জিম্মাদার হবে আমি তার জন্য জান্নাতের জিম্মাদার হবো (বুখারী) ।

৬. মিথ্যা পরিহার করা:

৭. দোষ চর্চা পরিহার করা: আল্লাহ তা’য়ালা পবিত্র কুর‘আনে ইরশাদ করেছেন “তোমরা একে অপরের গীবত (পরনিন্দা) করনা । তোমাদের মধ্যে কি কেউ তার মৃত ভাইয়ের গোশত খাওয়া পছন্দ করবে ? তোমরাতো তা অপছন্দ করে থাক । আর তোমরা আল্লাহকে ভয় কর নিশ্চয়ই আল্লাহ অধিক তওবা কবুলকারী অসীম দয়ালু (সূরা হুজরাত:১২)।

রাসূলুল্লাহ (সা:) ইরশাদ করেছেন, গীবত (পরনিন্দা) যিনার (ব্যভিচার) চেয়ে জগন্য অপরাধ(বায়হাকী)
সর্বত্র জবানের হেফাজত করা মূমিন মুসলমানের একান্ত কর্তব্য। বাসায়, পরিবার, পরিজনের সাথে, ছাত্র -শিক্ষকের সাথে, মালিক- কর্মচারীদের সাথে, নেতা-কর্মীদের সাথে । এক কথায় প্রত্যেকে তার অধীনস্থদের সাথে। তাই আসুন ইহকালীন শান্তি ও পরকালীন মুক্তির উদ্দেশ্যে কম কথা বলি এবং জবানের হেফোজতের জন্য প্রাণ পনে সর্বদা চেষ্টা করি। আল্লাহপাক তৌফিক দান করুন।

ইমাম মুহিউদ্দীন আন-নববী রহ.জবান হেফাজতের গুরুত্ব, পদ্ধতি নিয়ে মণিমুক্তোয় পরিপূর্ণ এই বইটি—- জবানের হেফাজত সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে ব‌ইটি পড়ুন।
0